গাজীপুরের শ্রীপুরের মাোনায় ৫ই আগস্টের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে। মাওনার রঙ্গীপাড়া এলাকার বাইতুল আমান জামে মসজিদে বিজিবির ছোড়া গুলিতে মসজিদের ভেতরেই শহীদ হয়েছেন নবনিযুক্ত মুয়াজ্জিন হাফেজ মাজিদুল ইসলাম। জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন আকিফ আব্দুল্লাহ।
গাজীপুর গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাোনায় গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে এক নজিরবিহীন ও বর্বরোচিত ঘটনার সাক্ষী হয়েছে রঙ্গীপাড়া এলাকার ‘বাইতুল আমান জামে মসজিদ’। মসজিদের পবিত্রতা উপেক্ষা করে ছোঁড়া বুলেট কাঁচ ভেদ করে ভেতরে ঢুকে বিদ্ধ হয় মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ মাজিদুল ইসলামের পেটে। নিজ কর্মস্থলেই রক্তে ভেসে গিয়ে শাহাদাত বরণ করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ই আগস্ট মাওনা এলাকায় বিজিবি অত্যন্ত বেপরোয়া অবস্থানে ছিল। সংঘর্ষ চলাকালে বিজিবির ছোঁড়া একটি বুলেট মসজিদের দ্বিতীয় তলার গ্লাস ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছিলেন হাফেজ মাজিদুল ইসলাম। বুলেটটি সরাসরি তার পেটে বিদ্ধ হলে তিনি মসজিদের টাইলসের ওপর লুটিয়ে পড়েন। মাত্র এক সপ্তাহ আগে তিনি এই মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
আকিফ আব্দুল্লাহর বয়ান
জুলাই শহীদ পরিবারদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এই লোমহর্ষক ঘটনার সন্ধান পান আকিফ আব্দুল্লাহ। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধ্বংসযজ্ঞ ও শোকাবহ পরিবেশের বর্ণনা দিয়ে বলেন:
> “আমি স্তব্ধ! গ্লাস ভেদ করে বুলেট মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করেছে এবং সেই বুলেটেই শহীদ হাফেজ মাজিদুল ইসলামের পেটে বিদ্ধ হয়। রক্তে ভেসে যায় মসজিদের দ্বিতীয় তলার টাইলস। আপনি চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন, আল্লাহর ঘরে গুলি ছোড়া হয়েছে এবং সেখানে একজন হাফেজ শহীদ হয়েছেন।”
>
প্রচারের বাইরে রয়ে গেছে এই ট্র্যাজেডি
আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাওনার এই বর্বরোচিত ঘটনার খবর এখন পর্যন্ত মূলধারার গণমাধ্যমে সেভাবে উঠে আসেনি। শহীদ মাজিদুল ইসলামের ত্যাগের ইতিহাস এবং মসজিদের ওপর এই হামলার চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন আকিফ আব্দুল্লাহ।
মসজিদের অবস্থান: গাজীপুরের মাওনা সংলগ্ন ওয়াপদার মোড় থেকে সামনে রঙ্গীপাড়া বাজারে অবস্থিত বাইতুল আমান জামে মসজিদ।
মন্তব্য করুন