
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশালের রাজনৈতিক মাঠে উত্তাপ বাড়ছে। সরকারের পরিবর্তনের পর দেশের রাজনৈতিক দলগুলো একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দেওয়ায় বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী তৎপরতা বেড়ে গেছে।
বরিশালের ছয়টি আসনে বিএনপির হারানো গণভিত্তি পুনরুদ্ধারে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা বেশ সক্রিয়। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীরও একই লক্ষ্য। তারা ইতোমধ্যেই ছয়টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার জল্পনা-উৎকল্পনা শুরু হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল-১):
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান ক্লিন ইমেজের কারণে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন মহলের সমর্থন পাচ্ছেন। জামায়াতের হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম খানও এলাকায় সক্রিয়। এছাড়া এনসিপি, এবি পার্টি এবং গণঅধিকার ফোরামও প্রার্থী দিতে পারে।
উজিরপুর-বানারীপাড়া (বরিশাল-২):
এখানে বিএনপির সাতজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও কেন্দ্রীয় নেতারা। জামায়াত মনোনয়ন দিয়েছে মাস্টার আবদুল মান্নানকে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাসদ থেকেও প্রার্থী হচ্ছেন অ্যাডভোকেট আনিচুজ্জামান আনিস।
বাবুগঞ্জ-মুলাদী (বরিশাল-৩):
এই আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সেলিমা রহমান, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও আরও অনেকে। জামায়াত, এবি পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকেও শক্তিশালী প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন।
হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ (বরিশাল-৪):
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, রাজীব আহসানসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী তৎপর। জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা আবদুল জব্বার নির্বাচনী মাঠে সরব।
বরিশাল সদর (বরিশাল-৫):
সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার ও আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহসহ আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার মাঝে মনোনয়ন প্রতিযোগিতা চলছে। জামায়াত থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল, যিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল-৬):
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজনসহ আরও কয়েকজন। জামায়াত মনোনয়ন দিয়েছে মাওলানা মাহমুদুন নবীকে, যিনি প্রত্যন্ত এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয়।
নির্বাচন বিশ্লেষণ ও সম্ভাবনা
বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এবার ধানের শীষ দেওয়া হবে ক্লিন ইমেজধারী প্রার্থীদের হাতে। দলের নেতারা মনে করছেন, দুর্দিনে যারা দলের পাশে ছিলেন, তারাই মনোনয়ন পাবেন। অন্যদিকে জামায়াত এবং ইসলামপন্থি দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে প্রার্থী বাছাইয়ের কথা ভাবছে।
বরিশালের ছয়টি আসনে বিএনপি, জামায়াত এবং অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনী প্রস্তুতি যে নির্বাচনের রূপ কতটা নাটকীয় হতে পারে, তা সময়ই বলে দেবে।
মন্তব্য করুন