
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির অভ্যন্তরে ক্রমশই বেড়ে চলেছে ‘হাইব্রিড’ ও ‘নব্য বিএনপি’ নামধারীদের দাপট। যারা অতীতে রাজপথের আন্দোলনে ছিলেন না, বরং ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সখ্য রেখে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন, তারাই এখন দলে প্রভাবশালী হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছেন। এর ফলে দলীয় দুঃসময়ে সাহসিকতার সঙ্গে মাঠে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীরা আজ চরমভাবে উপেক্ষিত, অনেক ক্ষেত্রে কোণঠাসা।
দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার মতে, আজ বিএনপির বিভিন্ন কমিটি, পদ, সুযোগ-সুবিধা চলে গেছে সেইসব ‘হাইব্রিড’দের হাতে, যারা অতীতে বিএনপির আদর্শ ও কর্মসূচি থেকে অনেক দূরে ছিলেন। দলের নাম ব্যবহার করে নানা জায়গায় চাঁদাবাজি, দখল, সন্ত্রাস ও ভাঙচুরের মতো অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন এরা।
সম্প্রতি কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনা ঘটে, যেখানে নিজেদের দলের কর্মীরাই আক্রান্ত হন। এর জেরে দুই নেতাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একইভাবে কুমিল্লার পাছথুবী ইউনিয়নে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজির অভিযোগে খোকন মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়। লালমনিরহাট, বনানী, এমনকি ঢাকা মহানগর দক্ষিণে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধেও দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে শোকজ নোটিশ জারি হয়েছে।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্পষ্টভাবে জানান, বিএনপি যেকোনো সন্ত্রাস, সহিংসতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই চার-পাঁচ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এমন অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ‘হাইব্রিড’ ও ‘নব্য বিএনপি’ নামধারীদের উত্থান ঠেকাতে এবং ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে দল কতটা আন্তরিক এবং সক্রিয়?
বিএনপির ভেতরের এই বৈপরীত্য ও আভ্যন্তরীণ সংকট দলটির ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
মন্তব্য করুন