
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আবু তাহের প্রধান। কিন্তু তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ—আবু তাহের গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
তাদের দাবি, আবু তাহের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছেন, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, এমনকি ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। তিনি সেই সময় নৌকার প্রার্থী সেলিম আহমাদ মেরীর হয়ে ভোট চেয়ে স্লোগান দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক তৃণমূল নেতা বলেন, “তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন—আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ বিএনপির কমিটিতে থাকতে পারবে না। তাহলে এমন একজন ‘নৌকার লোক’ কিভাবে বিএনপির সভাপতি হন?” তারা দ্রুত আবু তাহেরকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু তাহের বলেন, “আমি কখনো আওয়ামী লীগ করিনি। এটা একটি হিংসাত্মক অপপ্রচার। যেসব ছবি-ভিডিও দেখানো হচ্ছে, তার কিছু গ্রাম্য অনুষ্ঠানের, কিছু এডিট করে বানানো হয়েছে।”
তবে তার এ বক্তব্যে ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতারা বলছেন, “চোখের সামনে যা ঘটেছে, সেটাকে মিথ্যা বললে চলবে না। দলের শুদ্ধতা রক্ষায় এই ধরনের ব্যক্তিকে নেতৃত্ব থেকে সরানো জরুরি।”
ঘটনাটি নিয়ে তিতাসের রাজনীতিতে এখন উত্তপ্ত আলোচনা চলছে। বিএনপির স্থানীয় কমিটিতে অনুপ্রবেশ, যাচাই-বাছাইয়ের ত্রুটি এবং দলীয় আদর্শের বিপরীতে অবস্থানকারীদের পদ লাভ—এসব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কর্মী-সমর্থকরা।
তাদের দাবি একটাই—বিএনপির ভেতর থেকে আওয়ামী ‘দোসর’দের চিহ্নিত করে অবিলম্বে বাদ দিতে হবে।
মন্তব্য করুন