ঢাকা: বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে অন্যতম মুখপাত্র জনাব ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের সূত্রপাত, তার জবাবে ইশরাক হোসেন গতকাল বেশ কিছু কঠোর ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সার্জিস আলম।
সার্জিস আলম বলেন, “তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে যায় না। যদিও তিনি সরাসরি কারো নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু তার জবাবে জনাব ইশরাক হোসেন যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, অশালীন এবং রাজনৈতিক শালীনতাবোধের সম্পূর্ণ বিপরীত।”
তিনি ইশরাক হোসেনের বক্তব্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরেন:
১. “যেখানে মব দেখবেন, তাদের উলঙ্গ করে বাড়ি পাঠিয়ে দিবেন।”
২. “নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী নামের একটা বেয়াদব, বদমাইশ ছেলে।”
৩. “এই ডার্বি নাসিরকে হুঁশিয়ারি দিতে চাই…”
৪. “রাজনীতি অনেক দূরের কথা, এদেরকে প্রাইমারি স্কুলে পাঠানো উচিত।”
৫. “নির্বাচন একদিন পেছালে সরকারকে এক ঘণ্টাও রাখবো না।”
৬. “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ম্যান্ডেট কিছুই না।”
সার্জিস আলম বলেন, এই বক্তব্য শুধু নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর চেয়ে কয়েকগুণ নিচু স্তরের নয়, এটি আওয়ামী লীগের নেতারা অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে যেভাবে হুমকি-ধামকি দিয়েছেন, তারই প্রতিচ্ছবি। এতে কোনো রাজনৈতিক পরিপক্কতা বা গণতান্ত্রিক আচরণের ছাপ নেই।
তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ দেখতে চাই, তবে প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কেবল প্রতিপক্ষকে তিরস্কার করেই নয়, নিজেদের কর্ম ও বক্তব্যের মাধ্যমেই শিষ্টাচার ও নেতৃত্বের উদাহরণ তৈরি করতে হবে।”
সার্জিস আলমের মতে, যত বড় রাজনৈতিক দল, দায়িত্ব তত বেশি। জনাব ইশরাক হোসেনের এই বক্তব্যে রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে, যা দুঃখজনক।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে নানা রাজনৈতিক মতবিরোধ ও বাকবিতণ্ডা বেড়েই চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কটূক্তিপূর্ণ ভাষা ও একে অপরকে হুমকি দিয়ে রাজনীতি করার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
মন্তব্য করুন