পরনে এখনও লাল শাড়ি। এ শাড়িতেই হয়েছে বিয়ে। হাতে মেহেদির লাল টকটকে দাগ। বিয়ের আনন্দ মূহুর্তে পরিণত হয়েছে বিষাদে। স্বজনদের কান্নায় ভারী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বর। সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেছে ১৩ টি প্রাণ।

খুলনার মোংলা উপজেলার শেওলাবুনিয়া এলাকার সাব্বির আর খুলনার কয়রার মিতু বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বৃহস্পতিবার দুপুরে।
বিকেলে খুলনা মংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও নৌবাহিনীর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাণ হারান দুই পরিবারের ১২ জন এবং মাইক্রোবাসের চালক।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, দুপুরে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা এলাকার মিতুর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় সাব্বির। পরে নববধূকে নিয়ে মংলার নিজে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় পুরো পরিবার। মংলা উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় এলেই ঘটে দুর্ঘটনা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্ঘটনার পরপরই একের পর এক লাশ ঢোকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। নবদম্পতিসহ একে একে নয়টি লাশ নেওয়া হয় মর্গে। এছাড়াও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে আরও চার জনের মরদেহ।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপুলিশ পরিদর্শক এসআই মো. হাসান জানান, নিহতদের সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিল। মাইক্রোবাসে বর পরিবারের ১১, কনে পরিবারের ৩ জন ও ড্রাইভারসহ ১৫ জন যাত্রী ছিল। আর মৃতদের মধ্যে মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকসহ বর পরিবারের ৯ জন, কনে পরিবারের ৩ জন ও ড্রাইভারসহ ১৩ জন নিহত হন।
মন্তব্য করুন