সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে মাত্র ২২ মাস বয়সী শিশু অ্যালান রুমি। তবে এই গভীর শোকের মাঝেও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শিশুটির বাবা-মা। তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িচালকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করবেন না তারা এবং চালককে সম্পূর্ণভাবে ক্ষমা করে দিয়েছেন ওই দম্পতি।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যের বাসিন্দা অ্যালান রুমি তার মায়ের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাবার কাছে বেড়াতে এসেছিল। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যা সাতটার পর শারজাহতে ঘটে যাওয়া এক আকস্মিক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
কেরালায় নিজ বাড়ি থেকে গালফ নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শোকাহত বাবা-মা জানান, ২০১৮ সালে বিয়ের ছয় বছর পর জন্ম নেয়া তাদের একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় তারা গাড়িচালকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ রাখতে চান না।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি কোনো প্রধান সড়কে নয়, বরং শারজাহর মুয়াইলেহ এলাকায় তাদের আবাসিক ভবনের পাশের একটি বালুময় পার্কিং স্থানে ঘটে। দুর্ঘটনার সময় শিশুটির মা তার সঙ্গে ছিলেন। তিনি জানান, তার স্বামী তখন দুবাই-এ কর্মস্থলে ছিলেন। তিনি আবর্জনা ফেলতে ভবনের পাশে রাখা ডাস্টবিনের দিকে গিয়েছিলেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই শিশুর মা বলেন, ‘অ্যালান তখন খুব খেলাধুলার মেজাজে ছিল। আমি আবর্জনা ফেলছিলাম, সে হঠাৎ আমার হাত ছুটিয়ে দৌড়ে যায়। একই সময়ে পার্কিং করা একটি গাড়ি বের করছিলেন তাদের এক প্রতিবেশী। শিশুটিকে সময়মতো দেখতে না পাওয়ায় গাড়িটি থামানো সম্ভব হয়নি।
শোকাহত মা আরও বলেন, ‘আমি ওকে ধরতে পারিনি। সে গাড়ির খুব কাছাকাছি ছিল। চালকের পক্ষে ওকে দেখা সম্ভব ছিল না। সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যায়। আমরা কেউই কিছু করতে পারিনি। গাড়ির ধাক্কায় সে মাটিতে পড়ে যায়। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে কী হয়ে গেল। আমি ভেঙে পড়ি।’
দুর্ঘটনার পর সেই একই চালক অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষা না করে দ্রুত তাদের একটি নিকটবর্তী বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা শিশুটিকে একটি সরকারি হাসপাতালে পাঠান। তবে শেষ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ আঘাত গুরুতর হওয়ায় শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি।
বাবা-মা জানান, সন্তানের মৃত্যুর পরদিনই তাকে দুবাইতে দাফন করা হয় এবং এরপর তারা দেশে ফিরে যান। তারা আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়ার আগে কর্তৃপক্ষকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন তারা। শিশুটির বাবা বলেন, ‘সেই রাতেই জানতে পারি চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আমি পুলিশকে জানাই, আমরা তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে চাই না। বিষয়টি লিখিতভাবেও দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ক্ষতি আমাদেরই। এই শূন্যতা কেউ পূরণ করতে পারবে না। কিন্তু অনিচ্ছাকৃত একটি ঘটনার জন্য আমরা আরেকটি পরিবারকে দুঃখে ফেলতে চাই না।’
তবে তাদের সিদ্ধান্ত মামলার ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। শারজাহ পুলিশ জানিয়েছে, তারা তদন্ত শেষ করে মামলাটি পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে তারা অভিভাবক ও চালকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন