
বর্তমান সমাজে যখন চিকিৎসা পেশা অনেকাংশেই বাণিজ্যিক ধারায় প্রবাহিত, তখনও কিছু মানুষ আছেন যারা এই পেশাকে এখনও মানবতার সেবার মহৎ মাধ্যম হিসেবে দেখেন। তেমনই একজন বিরল ব্যক্তিত্বের নাম ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ। তিনি শুধু একজন চিকিৎসক নন, একজন মানবদরদী, একজন সেবক এবং একজন নির্ভরতার প্রতীক। তাঁর কর্ম ও আদর্শ আজ বহু মানুষের অনুপ্রেরণা।
চিকিৎসা জীবনের শুরু থেকেই তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন—অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসাসেবা পৌঁছে গেছে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে। রোগীকে রোগী নয়, মানুষ হিসেবে দেখা—এটাই তাঁর মূল দর্শন। চিকিৎসা করতে গিয়ে তিনি কখনোই আর্থিক সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেননি। বরং অনেক সময় বিনামূল্যে চিকিৎসা, এবং রোগীর পাশে মানসিক শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে থেকেছেন।
ডা. আজাদের সেবামূলক কর্মকাণ্ড শুধু তাঁর ব্যক্তিগত চেম্বার বা হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করেন। তাঁর উদ্যোগে বহু দুঃস্থ রোগী জটিল চিকিৎসা পেয়েছেন, যাঁরা হয়তো অর্থাভাবে দীর্ঘদিন কষ্ট পেয়েছেন চিকিৎসার সুযোগ ছাড়াই।
একজন চিকিৎসক হিসেবে তাঁর পেশাগত দক্ষতা যেমন অনন্য, তেমনি একজন মানুষ হিসেবে তাঁর আন্তরিকতা, সহানুভূতি ও দায়বদ্ধতা অনুকরণীয়। সমাজে যখন অবিশ্বাস, আত্মকেন্দ্রিকতা ও ভোগবাদিতা বাড়ছে, তখন ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন—মানবিকতা এখনো হারিয়ে যায়নি।
আমরা বিশ্বাস করি, এই সমাজে যতদিন ডা. আজাদের মতো চিকিৎসক থাকবেন, ততদিন মানুষের প্রতি বিশ্বাসও বেঁচে থাকবে। তিনি নিঃসন্দেহে আমাদের সময়ের একজন নীরব নায়ক, যিনি নীরবে-নিভৃতে আলোকিত করছেন বহু জীবন।
মন্তব্য করুন