মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে যুবককে পাথর মেরে হত্যার ঘটনায় কিসাস প্রসঙ্গে শায়খ আহমাদুল্লাহর মন্তব্য নিয়ে আমার মতামত
সম্প্রতি রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে জনসমক্ষে মোহাম্মদ সোহাগ নামে এক ব্যবসায়ী যুবককে নির্মমভাবে পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি সমগ্র জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই অমানবিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশের খ্যাতিমান ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ ফেসবুকে একটি মন্তব্য করেছেন যা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, “কিসাসই এসব কসাইয়ের সমাধান।” তার ব্যাখ্যায় তিনি স্পষ্ট করেন, কিসাস অর্থ হচ্ছে সমান শাস্তি—যেভাবে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, ঠিক সেইভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
শায়খ আহমাদুল্লাহর এই মন্তব্য শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলনও বটে। যখন মানুষ আইনের শাসনের প্রতি আস্থা হারাতে শুরু করে, তখন তারা কুরআনের নির্দেশনার গভীরতা বুঝতে পারে। তিনি যথার্থই বলেছেন—এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার যদি দুই মাসের মধ্যেই শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া যায়, তাহলে অপরাধ প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে বিচার প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘ, যেখানে বছরের পর বছর মামলার রায় আসে না। আর এই দীর্ঘসূত্রতার মধ্যেই অনেক অপরাধী আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। ফলে সমাজে অপরাধীদের সাহস বাড়ে, এবং নিরীহ মানুষ হত্যার শিকার হতে থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে শায়খ আহমাদুল্লাহর “কিসাস” সংক্রান্ত বক্তব্য সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত মনে করি। ইসলামের এই বিচারনীতি শুধু প্রতিশোধ নয়, বরং সমাজে ন্যায় ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর ব্যবস্থা।
মন্তব্য করুন