ফেনীর উত্তরাঞ্চলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি বৃদ্ধিতে অন্তত ৮টি স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে এই ভাঙন শুরু হয়। কোথাও কোথাও নদীর পানি বেড়িবাঁধ উপচে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতভর পানিবন্দী অবস্থায় চরম দুর্ভোগে কাটিয়েছেন তারা। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাতেই আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, দুর্গত মানুষের জন্য ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
ফুলগাজীতে দেড়পাড়া, শ্রীপুর, মুন্সিরহাট, বরইয়া, নিলক্ষীসহ ১০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। ফুলগাজী বাজারেও পানি ঢুকে পড়েছে, এতে দোকানপাটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরশুরামের উত্তর ধনীকুন্ডা, মধ্যম ধনীকুন্ডা, রামপুর, দুর্গাপুর ও রতনপুরও প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বল্লামুখায় ভারতের অংশে বাঁধ ভেঙে বাংলাদেশের গ্রামে পানি প্রবেশ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন জানিয়েছেন, মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে টানা দুই দিনের বর্ষণে ফেনী শহরের বিভিন্ন এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করলেও নিচু অঞ্চলের ঘরবাড়ি এখনও বসবাসের উপযোগী নয়। এসব এলাকার মানুষ এখনও চরম দুর্ভোগে দিন পার করছেন।
মন্তব্য করুন